Community Women Against Abuse

We Stand for Equality, Secularism and Peace


Leave a comment

বেগম রোকেয়ার নারীমুক্তির মশাল আজও বাতিঘরের মত পথ দেখাচ্ছে

Nari Diganta Celebrates Begum Rokeya Dibosh 2014

যুক্তরাজ্যে নারী দিগন্তের উদ্যোগেরোকেয়া দিবসউদযাপন

By Nilufa Yesmin Hasan

নারীমুক্তি আন্দোলনের পথিকৃত বেগম রোকেয়া স্মরণে নারী দিগন্ত গত ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে ‘রোকেয়া দিবস’ পালন করেছে। ৯ ডিসেম্বর নারী শিক্ষার অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনটি দীর্ঘদিন যাবৎ ‘রোকেয়া দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

Key note speech by Nilufa Hasan on 5 December 2014.

Key note speech by Nilufa Hasan on 5 December 2014.

সমাজ সচেতন লেখিকা বেগম রোকেয়া ছিলেন নারীদের মুক্তির অগ্রদূত। শিক্ষাকে তিনি হাতিয়ার হিসাবে দেখেছেন। তিনি বুঝেছিলেন কুসংস্কারাচ্ছন্ন, নিরক্ষর ও ধর্মীয় গোঁড়ামী থেকে নারীকে মুক্ত না করে সমাজের অগ্রগতি যেমন সম্ভব নয়, তেমনি নারী স্বাধীনতাও সম্ভব নয়। নারীমুক্তি আন্দোলনের যেই মশাল তিনি প্রজ্জ্বলিত করেছেন তা আজও বাতিঘরের মত আমাদের পথ দেখাচ্ছে।

নারী দিগন্তের সভাপতি শামীমআরা হেনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বেগম রোকেয়ার কর্মময় জীবন ও তাঁর লেখনীর উপর আলোকপাত করতে গিয়ে বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন। নারী দিগন্তের সাধারন সম্পাদক নাসিমা কাজলের চমৎকার উপস্থাপনায় পরিচালিত সভায় মূল বক্তব্য প্রদান করেন নারী দিগন্তের প্রচার সম্পাদক নিলুফা ইয়াসমীন। উক্ত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নারী নেত্রী রাজিয়া বেগম, ডঃ রুমানা হাশেম,  সংগ্রাম বিষয়ক সম্পাদক জুবাইদা নাসরিন কণা, এবং বাঙালী সাংস্কতিক কর্মী স্বাগুপ্তা তানিয়া।

Nari Diganta's Co-chair Razia Mannan greeted audience and paid tribute to Begum Rokeya Sakhawat Hossain.

Nari Diganta’s Co-chair Razia Mannan greeted audience and paid tribute to Begum Rokeya Sakhawat Hossain.

বক্তারা বলেন, যে যুগে নারী শিক্ষা ছিল নিষিদ্ধ, সে যুগে পর্দার আড়ালে থেকে বেগম রোকেয়া নিজে শিখেছেন এবং সেই শিক্ষা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া নারী মুক্তি সম্ভব নয়। তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং বাড়ী বাড়ী গিয়ে স্কুলের জন্য ছাত্রী যোগাড় করেছেন। আধুনিক মনের মানুষ রোকেয়া নারী শিক্ষার জন্য সারাটা জীবন যে সংগ্রাম করেছেন এবং অবদান রেখেছেন, তা সকল বক্তাই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

বেগম রোকেয়ার লেখনী সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, তাঁর উপন্যাস পদ্মরাগ এবং অন্যান্য বই- রসনা বিলাস, অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন- প্রত্যেকটি লেখাতেই আছে নারী জাগরণ ও অমানবিক বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থার শিকার ভাগ্যবিড়ম্বিতা রমনীদের বেদনাদায়ক কাহিনী। তাঁর উপন্যাসের নায়িকা সিদ্দিকার তেজ্যোদৃপ্ত উক্তি বেগম রোকেয়ার নিজস্ব অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ। বক্তারা আরো বলেন, একশ ৩৪ বছর আগে বেগম রোকেয়া যে শোষণভিত্তিক ও বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়েছেন তা আজও বিদ্যমান। তারা আরও বলেন, সকল চ্যালেঞ্জিং পেশায় এমনকি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নারী অধিষ্ঠিত হলেও আজও মেয়েরা তাদের ন্যায্য মুজুরী পাচ্ছেনা, কাজের মূল্যায়ন হচ্ছেনা, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারী প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এখনো ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীকে পিছিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। আমরা আজ কথা বলছি একটি সভ্য দেশে বসে, এই পূর্ব লন্ডনেও এই ধরনের অপচেষ্টা আমরা দেখতে পাই।

বেগম রোকেয়া নারীদের কাজের মূল্যায়নের কথা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে সকল নারীরা অস্ত্র হাতে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, আজও সেইসব নারী মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়না। এটাকে দুঃখজনক বলেও সভায় বক্তারা তুলে ধরেন।

আলোচনা পর্ব শেষে নারী দিগন্তের সদস্য নাজ নাঈমের পরিচালনায় শুরু হয় প্রাণবন্ত কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে জাকিয়া তাসনিম ঝুমু প্রথম এবং জুবাইদা নাসরিন কণা ও স্বাগুপ্তা তানিয়া যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। তৃতীয় পর্বে নারী দিগন্তের সদস্যরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন। এতে গান পরিবেশন করেন মুনজারিন রশীদ সনি, রাজিয়া রহমান, নাসিমা কাজল, কণা, সাঈদা খানম এবং স্বরচিত কবিতা পড়েছেন মেহের আহমেদ। সভাপতি শামীমআরা হেনার বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

Advertisements