Community Women Against Abuse

We Stand for Equality, Secularism and Peace


Leave a comment

যুক্তরাজ্যে প্রগতিশীল নারী সংগঠন নারী দিগন্তের সম্মেলন

Report of Nari Diganta’s Conference in Bangla

By Nilufa Yasmin Hasan

conference pic-5 Jan 2014নিলুফা ইয়াসমিন, লন্ডনঃ ‘মানব-মুক্তির পূর্ব শর্ত নারী মুক্তি’ এই শ্লোগানকে অঙ্গীকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে ব্রিটেনে প্রগতিশীল নারী সংগঠন নারী দিগন্ত’র প্রথম সম্মেলন গত ৪ জানুয়ারি পূর্ব লন্ডনের মাইক্রোবিজনেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে শামীমআরা হেনাকে সভাপতি ও নাসিমা কাজলকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে নারী দিগন্তের ২৫ সদস্যের কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নারী নেত্রী শামীমআরা হেনার সভাপতিত্বে ও নাসিমা কাজলের পরিচালনায় সংগঠনের সম্মেলন ও পরে  মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নারীবাদের নিরিখে বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার নেত্রী নাইমা কায়েস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন কণা, কবি শামীম আজাদ, লেবার দলীয় নেত্রী শামসিয়া আলী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ডলি ইসলাম।

মানবাধিকার নেত্রী নাইমা কায়েস বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের নারী সমাজের মূল সমস্যা হলো সমতার অভাব। বাঙালি নারীদের ব্রিটেনেও এই সমস্যার প্রভাব লক্ষণীয়। মুক্তির লড়াইয়ে নারীদের সাহসী ভূমিকা নিতে হবে।

নারি দিগন্তের নব নির্বাচিত কার্যকরী সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন কণা বাংলাদেশের নারী প্রগতির আন্দোলন ও মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার চিন্তা ও চেতনার প্রতিফলন  এবং আর্ন্তজাতিক নারী সনদ সিডওর বাস্তবায়ন সম্পর্কে বাংলাদেশে বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

কবি শামীম আজাদ ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রামশীলতাকে তার বক্তব্যে তুলে ধরে বলেন, আমার জীবনের প্রতিটি ক্ষণে আমি আমার স্বামী এবং সন্তানের মঙ্গলের জন্য নিজেকে কর্মব্যস্ত রেখেছি। নারী হিশেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু বাঙালি সমাজে নারীদের অধিকার এখনো পুরুষ শাসিত সমাজে অবহেলিত। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নারীদের অধিকার আদায় ও মুক্তির জন্য নিজেকেই সংগ্রামী ভূমিকা নিতে হবে।

লেবার দলীয় রাজনীতিক শামসিয়া আলী  ব্রিটেনের বহুজাতিক সমাজে  লড়াই করে নিজেকে কীভাবে এগিয়ে নিচেছন, তা অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় সভায় তুলে ধরেন।

সম্মেলনে ২৫ সদস্যের কার্যকরি কমিটির মধ্যে আরও রয়েছেন সহ-সভাপতি রাজিয়া মান্নান, রুবি হক, ও আখি চৌধুরী।যুগ্ম সম্পাদক হিশেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা মির্জা রকিব, কোষাধ্যক্ষ ফাতেমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহের আহমদ, সংগ্রাম বিষয়ক সম্পাদক জোবাইদা নাসরিন, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক পুষপিতা গুপ্ত, আইনী সহায়তা সম্পাদক পিয়া মায়েনিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিলুফা ইয়াসমিন হাসান, আর্ন্তজাতিক সম্পাদক ডা. শহিদা ইসলাম, ডেভলপমেন্ট সেক্রেটারি রুজিনা রুহুল, শ্বাস্থ ও পরিবেশ সম্পাদক ডা. নিলুফার খান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মানজারীন রশিদ সনি।

নারী দিগন্তের কার্যকরী সদস্য হিসেবে আরও নির্বাচিত হয়েছেন নারী নেত্রি ডলি ইসলাম, শামিম আজাদ, ডঃ রুমানা রওশন হাশেম, হোসনে আরা মতিন, মেহের নিগার, রাজিয়া রহমান, রওশন ফেরদৌসী লিপি, শাবানা নার্গিস চৌধুরী কেয়া ও সাইদা খানম।উপদেষ্টা হিশেবে রয়েছেন নাইমা কায়েস, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ।

সম্মেলনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ছাড়াও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন সত্যেন সেন স্কুল অব পারফমিং আটর্সের শিক্ষাথীরা ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী  ইউকে সংসদের শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ইমতিয়াজ আহমেদ রবীন্দ্রসঙ্গীত ও ডা. শাহিদা ইসলাম নজরুলসঙ্গীত পরিবেশন করেন।

উল্লেখ্য, নারী দিগন্ত প্রায় দুই বছর যাবত লন্ডনে বাঙালি নারী-উন্নয়নে প্রচার কাজ করছে।সম্মেলনে বিপুল সংখ্যক বাঙালি নারীর উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এছাড়া লন্ডনের সংস্কৃতিকর্মী ও বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, কবি হামিদ মোহাম্মদ, সৈয়দ রকিব আহমদ, সৈয়দ নিয়াজ আহমদ, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, গোপাল দাশ, রুহুল আমিন, জামাল আহমদ খান, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, কবি মুজিবুল হক মনি, হোসনে আরা মতিন।

সম্মেলনে গৃহীত সাতটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নতুন সদস্য সংগ্রহ, ব্রিটেনে দশটি শাখা গঠন, সাংগঠনিক দক্ষতা অর্জন, স্থায়ী অফিসের ব্যবস্থা, ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংগঠনের লগো ও গঠনতন্ত্রকে আইনি সুরক্ষা দেয়া প্রভৃতি।

সাংগঠনিক প্রস্তাব

  • নতুন সদস্য সংগ্রহ, সদস্যপদ নবায়ন, শাখা গঠন প্রভৃতি কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্রিটেনের সকল শহরে নারী দিগন্তকে বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
  • আগামি দুই বছরে ৩০০ নতুন সদস্য এবং ১০টি শাখা গঠন করা হবে।
  • সদস্য ও নেতাদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ বিষয়ে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে।
  • সংগঠনের লন্ডনে একটি কেন্দ্রীয় স্থায়ী অফিস এবং বিভিন্ন এলাকা ও শহরে শাখা অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
  • প্রতিটি বিভাগীয় সম্পাদক নীজ নীজ বিভাগের জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের উদ্যোগ নেবেন।
  • কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও শাখা কমিটিগুলি প্রতি মাসে একটি করে মিটিং করার উদ্যোগ নেবে।
  • সংগঠনের নাম, লোগো এবং গঠণতন্ত্রকে আইনি সুরক্ষা দেবার উদ্যোগ নেয়া হবে।

ব্রিটেনে বাংলাদেশী নারীদের অবস্থা সম্পর্কে প্রস্তাব

  1. সর্বক্ষেত্রে নারীদের সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে সভা সমাবেশ, ও আন্দোলনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
  2. যেখানে নারীর প্রতি বৈষম্য, নির্যাতন ঘটবে সেখানেই প্রতিবাদ করা হবে। সদস্যরা নিজেরা কোন ধরনের বৈষম্য ও নির্যাতনে অংশ নেবে না।
  3. নারীদের শিক্ষা, চাকুরী, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চায় বাংলাদেশী নারীদের অংশগ্রহণ ও অর্জন বাড়ানো ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষে কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
  4. বাংলাদেশী নারীদের অবাধে চলাফেরা, নীজেদের পছন্দমত জীবনাচরনের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
  5. বাংলাদেশী নারীদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানে আইনি সহায়তা, প্রচার-প্রচারনা, তদবির করা এবং বিভিন্ন সহায়তাকারী সংস্থায় সাইন পোস্টিং করবে।
  6. ব্রিটেনে বাংলাদেশি নারীদের সংগঠন গুলোর মধ্যে একতা ও সংহতি বৃদ্ধি এবং নারী ইস্যুতে একযুগে কাজ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
  7. ব্রিটেনের মূলধারার সমমনা প্রগতিশীল নারী ও অন্যান্য সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠণের সাথে যোগাযোগ, সম্পর্ক স্থাপন এবং যৌথ ভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

সভায় নারী দিগন্তের নবনির্বাচিত কার্যকরী সদস্যরা নারী নেত্রী রাজিয়া মান্নান, সাইয়দা মনিরা আখতার খাতুন এবং ডঃ রুমানা রওশন হাশেমের প্রস্তাবিত সংবিধানটি সংগঠনের প্রথম সংবিধান হিসেবে অনুমোদন করেন।

Advertisements